প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস

পশ্চিম বগুড়ার অবহেলিত “নারী শিক্ষা” প্রসার ও উন্নয়নের দৃপ্ত প্রত্যয়ন নিয়ে ১৯৯৮ ইং সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এলাকাবাসীর সদেচ্ছা, তরুণ ধণাঢ্য ব্যক্তি জাহিদুর রহমান বিটুর সহযোগিতা ও এক ঝাঁক প্রাণচঞ্চল-নবীন-কর্মোদ্যমী শিক্ষক/শিক্ষিকা দ্বারা কলেজটি যাত্রা শুরু করে।

স্থানীয় ছয়পুকুরিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়সহ এলাকার অন্যান্য বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর উচ্চ শিক্ষার সিঁড়ি হিসেবে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশায় সে সময়ের এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মন্ডল ও মেম্বারদের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসী যাদের নাম উল্লেখ না করলেই নয় যথাঃ সর্বজনাব নূরুল ইসলাম নুন্নী, রফিকুল ইসলাম, এ্যাড. রুহুল আমিন খান, সামসুল হক,ডাঃ আজিজুল হক, হারুন-অর-রশিদ, আব্দুল লতিফ, আবু তাহের, জব্বার মন্ডল, আব্দুস সামাদ, আরফান, মাহফুজার রহমান মাফু প্রমূখ সহ আরো অনেকের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আর নিয়োগ প্রাপ্ত শিক্ষক/শিক্ষিকাদের নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রমে শিশু-কলেজের সম্মুখে চলা অব্যাহত থাকে ।

সেফওয়ে মোটেলের স্বত্ত্বাধিকারী মৃত মস্তাফা আল-মামুনসহ তার পরিবারবর্গ নারী শিক্ষার প্রতি আন্তরিক ভালবাসা নিয়ে এগিয়ে আসেন কলেজের উন্নয়ন কর্মকান্ডে। তাদের আর্থিক সহায়তায় রাবেয়া হল নামে একাডেমিক ভবনের একাংশ গড়ে ওঠে। স্বদেশ প্রেমের প্রবল আকাঙক্ষা বুকে ধারণ করে জ্ঞানের বিদ্যুচ্ছটা বিচ্ছুরণকারী লন্ডন প্রবাসী ড. তৈয়ব হোসেন কলেজের মেধাবী ছাত্রীদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির কামনায় বৃত্তি প্রদানের জন্য একলক্ষ টাকার “মোস্তফা আল মামুন ও হোসনে আরা মামুন ”নামে  বৃত্তি ফান্ড গঠন করে দেন। বিচিত্র বিষয়ের বিপুল সংখ্যক গ্রন্থের সমাহারে একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে “গ্রন্থাগার ভবন” নির্মাণ করতেও তারা একক সহযোগিতা প্রদান করেন। পরবতীতে ২০০৭ সালে তাদের সার্বিক সহযোগিতায় “সাদত আলী আখন্দ ছাত্রী হল” নামে একটি আবাসিক ছাত্রী নিবাস কলেজ ক্যাম্পাসে নির্মিত হয়।

অপর ধনাঢ্য ব্যক্তি খন্দকার দারুল ইসলাম নাজু (জলেশ্বরীতলা) কলেজ উন্নয়ন ফান্ডে এককালীন দুইলক্ষ টাকার চেক হস্তান্তর করে বিদ্যানুরাগীর পরিচয় প্রদান করেন। প্রতি বছর উদারপ্রাণ কলেজ প্রতিষ্ঠাতা কর্তৃক গরীব ও মেধাবী ছাত্রীদের প্রায় ষাট থেকে আশি হাজার টাকা মূল্যের পাঠ্যবই বিতরণ করা হয়। এছাড়া ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় প্রশাসন ও পশ্চিম বগুড়ার নানান শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গ কলেজের উন্নয়নে তাদের স্বতস্ফুর্ত আর্থিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং পরামর্শ প্রদান করে নারী শিক্ষা বিস্তারে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন। তাদের সকলের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। মহান আল্লাহ প্রত্যেক মহানুভবকে উপযুক্ত পুরস্কার প্রদান করুন এই প্রার্থণা করছি।

“ভাল কলেজ হওয়ার পূর্বশর্ত, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ভাল ফলাফল” – কথাটি মাথায় রেখে শিক্ষা কার্যক্রম ও তত্ত্ববধানের প্রতি মনোনিবেশ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিশ্রম করতে থাকেন শিক্ষক/শিক্ষিকাগণ। পাশাপাশি চলতে থাকে কলেজ পরিচালনা কমিটির খোঁজ-খবর। ফলশ্রতিতে ২০০০সালে প্রথম এইচ.এস.সি পাবলিক পরীক্ষায় ৭৯ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করে ৬৭ জন। পাসের হারবৃদ্ধি ও ফলাফল আরও ভাল করার জন্য সাপ্তাহিক ও মাসিক মূল্যায়ন-পরীক্ষার প্রবর্তন করা হয়। পরীক্ষার মার্কশিট অভিভাবকদের হাতে তুলে দেবার ব্যবস্থা করা হয়। অভিভাবক সমাবেশের মাধ্যমে তাদের পরামর্শ গ্রহণ করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হয়।ছাত্রীদের ক্লাসে নিয়মিত উপস্থিতি ও পড়াশোনায় মনোযোগী করে তুলতে অভিনব অথচ ফলপ্রসূ কৌশল অবলম্বন সহ নানামুখী ব্যবস্থা গহণ করা হয়। পরিণামে ২০০৩ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফলাফলে গড় পাসের হার বগুড়া জেলার বেসরকারী কলেজগুলোর  মধ্যে এই কলেজই শীর্ষে থাকে। যার ধারা বর্তমানেও বহাল রয়েছে।

১ (এক) একর ২ (দুই) শতাংশ জমির উপর কলেজটি ১৯৯৮ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু করলেও রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড কর্তৃক উচ্চ মাধ্যমিক শাখা একাডেমিক স্বীকৃতি অর্জন করে ০১/০৫/২০০২ সালে এবং এম, পি,ও ভুক্ত হয় ০১/০৫/২০০৪ সালে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখায় প্রথমে মোট ১৯ টি বিষয় চালু ছিল এবং বর্তমানে বিষয় সংখ্যা ২০। তখন স্টাফের সদস্য সংখ্যা ছিল ৪২ আর বর্তমানে তার সংখ্যা ৫৯ জন। এরপর ২০০৪ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ডিগ্রী পযায়ে ১০টি বিষয় ও ১৯ জন শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়ে ‘বি.এ’ ও ‘বি. এস. এস.’ বিভাগ দুটি অধিভুক্তি লাভ করে। ২০০৫ সালে কলেজ থেকে প্রথম বারের মত ৮ জন পরীক্ষার্থিনী ডিগ্রী প্রথম বর্ষ পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ও ৮ জনই উত্তীর্ণ হয়-যার পাসের হার ছিল ১০০%।

প্রতিবছর নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর ও সাধারণ জ্ঞান, কবিতা আবৃত্তি, রচনা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতাসহ স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের রোভার স্কাউটে অংশ গ্রহণ করে কলেজটি ইতোমধ্যে সুনাম অর্জন করেছে।
সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ রক্ষার্থে কলেজটিকে অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অটল রয়েছে। আগামীতে ছাত্রীদের জন্য যাতায়াতের সুবিধার্থে পরিবহন (বাসের) ব্যবস্থা ও অনার্স কোর্স চালু করা হবে-ইনশায়াল্লাহ।

পরিশ্রম করে ওয়েব প্রোর্টাল সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ ও সংস্থাপনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করায় বাংলা বিভাগের প্রভাষক আখতার-উল-আলমকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেষ করছি।