ক) কোনো আবাসিক ছাত্র বিদ্যালয়ে আসার সময় মূল্যবান দ্রব্যাদি যেমন-রেডিও, টিভি, কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, সোনার আংটি, দামি ঘড়ি অথবা নগদ টাকা আনতে পারবে না।

খ) সিল্ক বা অনুরূপ দামি পোশাক আনা যাবে না।

ঘ) প্যান্টের ঘের অসঙ্গতিপূর্ণ হতে পারবে না। বড়দের জন্য অনুমোদিত ঘেরের পরিমাণ হচ্ছে   ২’০” । প্যান্টের সোজা কাটিং হতে হবে। ফ্যান্সি ডিজাইন ব্যবহার করা যাবে না।

ঙ) শার্ট যেমন পোশাকের তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে, সেরূপ তৈরি করতে হবে। শার্টে ঢাকনা ছাড়া বুকে একটি পকেট থাকবে।

চ) নিচু হিলওয়ালা কালো রং-এর জুতা (অক্সফোর্ড সু) ছাত্রদের দিতে হবে।

ছ) শীতকালে ব্লেজার/কোটের পরিবর্তে ব্লু পুলওভার/সোয়েটার দেয়া যেতে পারে। তবে তাতে রঙিন কারুকার্য থাকতে পারবে না।

জ) বিদ্যালয়ে আসার পূর্বেই ছাত্রদের চুল ছোট করে ছেঁটে আসতে হবে।

ঞ) ক্লাস/পরীক্ষা চলাকালীন জন্মদিবস পালন, বিয়ের অনুষ্ঠান, উরশ, মিলাদ-মাহফিল ইত্যাদি উপলক্ষে ছুটির অনুরোধ করা যাবে না। এগুলো শুধু সংশ্লিষ্ট ছাত্রেরই লেখাপড়ায় একনিষ্ঠ মনোযোগ নষ্ট করে না, বরং তার শ্রেণির অন্য ছাত্রদেরও বাড়ি যাওয়ার প্রতি প্রবণতা বাড়িয়ে দেয় এবং পাঠগ্রহণ ব্যাহত করে।

ঠ) আবাসিক ছাত্রদের সঙ্গে অভিভাবকদের অনির্ধারিত তারিখে সাক্ষাৎ কলেজের স্বাভাবিক কর্মতৎপরতা ব্যাহত করে এবং অন্য ছোট ছেলেদের মনে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। তাই অভিভাবকদেরকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারে ঘোষিত নির্ধারিত তারিখে তাদের পুত্র/প্রতিপাল্যকে দেখতে আসার জন্য অনুরোধ করা হল।

ড) প্রত্যেক অভিভাবককে কলেজের বেতনাদি যথাসময়ে পরিশোধ করতে হবে।

 

উপরের নিয়মাবলি পালনের ব্যাপারে অভিভাবকগণের সহযোগিতা একান্ত কাম্য।

 

পোশাকের তালিকা ছাত্রদের জন্য

শার্ট : অ্যাস কালার হাফ হাতা
প্যান্ট : নেভী ব্লু
বেল্ট : কালো বেল্ট
জুতা: ব্ল্যাক সু
মোজা: সাদা মোজা

 

পোশাকের তালিকা ছাত্রীদের জন্য

ফ্রক : অ্যাস কালার
ওড়না : নেভী ব্লু
পাজামা : নেভী ব্লু
জুতা : ব্ল্যাক সু
মোজা : সাদা মোজা

ঙ। কলেজ টাই, বর্ষপঞ্জি, সিলেবাস, নামফলক, ব্যাজ, পরিচয়পত্র (কলেজ থেকে অর্থের বিনিময় দেয়া হবে)

 

ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার জরুরী নির্দেশনাবলী
  • স্ব স্ব ধর্মের বিধি বিধান মেনে চলতে হবে এবং পারস্পরিক সকল ধর্মের প্রদি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।
  • ০২। জাতীয় সংগীতের ভাবার্থ উপলদ্ধি করে নিজের জীবনে প্রতিষ্ঠা করবে।
  • ০৩। জাতীয় পতাকার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে।
    ০৪। মাতৃভাষা, মাতৃভূমি ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেকে উদ্ধুদ্ধ করতে হবে।
    ০৫। দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে লালন করবে।
    ০৬। পিতা,মাতা, শিক্ষক ও গুরুজনদের আদেশ উপদেশ মেনে চলবে।
    ০৭। দেশপ্রেমে উদ্ধুদ্ধ হয়ে আদর্শ সুনাগরিক হিসাবে নিজেকে গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে।
    ০৮। সৎচিন্তা করবে, সৎপথে চলবে, সত্য কথা বলবে, অন্যায়কে ঘৃণা ও প্রতিহত করতে চেষ্টা করবে।
    ০৯। অধ্যবসায়ী ও পরিশ্রমী হবে, হতাশ হবে না, জীবনে সফলতার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভরসা, সাহায্য প্রার্থনা ও সাধনা করবে।
    ১০। সহাপাঠিদের প্রতি সহনশীল থাকবে।
শিক্ষার্থীদের আচরণ ও বিশেষ নির্দেশাবলী
০১। স্কুল শুরু হওয়ার কমপক্ষে ১৫ মিনিট পূ্র্বে স্কুলে আসতে হবে। যথারীতি সমাবেশে যোগ দেবে এবং সমাবেশ শেষে সারিবদ্ধভাবে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করতে হবে।
০২। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন স্কুল ইউনিফর্ম পরে স্কুলে আসতে হবে।
০৩। মাথার চুল অবশ্যই (ছাত্রদের) ছোট রাখবে, হাতে নখ বড় রাখা যাবে না।
০৪। জাতীয় সংগীত, শপথ বাক্য ও সূরা ফাতিহা শুদ্ধ উচ্চারণে মুখস্ত করতে হবে।
০৫। স্কুল আরম্ভ হওয়ার পূর্বে এবং স্কুল ছুটি হওয়ার পরে স্কুল প্রাঙ্গণের কোথাও শিক্ষার্থীরা খেলাধূলা করতে পারবে না।
০৬। জরুরী প্রয়োজন ছাড়া দুই পিরিয়ডের মধ্যবর্তী সময়ে কোন শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষের বাহিরে যেতে পারবে না।
০৭। টিফিন পিরিয়ডের পর সতর্কীকরণ ঘন্টা বাজার সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করবে।
০৮। স্কুলের কোন সম্পদ নষ্ট করলে তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামত ও সংস্কারের ব্যবস্থা করবে।
০৯। স্কুলের দেয়ালে, দরজায়, জানালায় বা ডেস্কে কোন কিছু লেখা যাবে না এবং স্কুল প্রাঙ্গণ বা শ্রেণিকক্ষ কোনভাবে অপরিচ্ছন্ন করতে পারবে না।
১০। বহিরাগত কোন বন্ধু বান্ধব নিয়ে কোন ছাত্র/ছাত্রী স্কুলে প্রবেশ করতে পারবে না।
১১। স্কুলের কোন শিক্ষার্থী পাঠদানের সাথে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামাদী ব্যতিত অন্য কোন সরঞ্জাম যেমন-মোবাইল, খেলার সরঞ্জাম, এমপি৩, এমপি৪ ইত্যাদি স্কুলে আনা যাবে না।
১২। বিনা অনুমতিতে কোন শিক্ষার্থী স্কুল ত্যাগ করতে পারবে না।
১৩। একাধারে তিনদিনের বেশী অনুপস্থিত থাকতে হলে পূর্বেই ছুটি নিতে হবে। সকল ছুটির আবেদনপত্রে অবশ্যই অভিভাবকের স্বাক্ষরথিাকতে হবে।
১৪। নিয়মিত পড়া শিখে আসবে এবং বাড়ির কাজ করে আনতে হবে।
১৫। ছুটির ঘন্টা বাজলে শৃংখলার সাথে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করবে।
১৬। কোন অবস্থাতেই বিদ্যালয়ের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম যেমন-মেইন সুইচ, সুইচ, সকেট, কাট আউট, ফ্যান, লাইট, তার ইত্যাদি স্পর্শ করা যাবে না।
সম্মানিত অভিভাবক প্রতি
০১। প্রকৃত অভিভাবক “দৈনিক পাঠের বিবরণী” বইয়ে নিজের পরিচিতি ও নমুনা স্বাক্ষর দেবেন। পিতা-মাতা জীবিত/উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও দেখা যায় গৃহ শিক্ষক, চাচা, মামা, বড় ভাই-এদেরকে অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। পিতা-মাতাই ছাত্রের প্রকৃত অভিভাবক/অভিভাবিকা।
০২। প্রতিদিন আপনার সন্তান বিদ্যালয় থেকে বাসায় ফেরার পর সেদিন শ্রেণিতে শিক্ষক কোন পিরিয়ডে কি বিষয় পড়িয়েছেন তা দেখে ছেলের উপস্থিত ও পাঠসমূহ সম্বন্ধে নিশ্চিত হউন এবং ঐ দিনের কার্যক্রম বিবরণী পৃষ্ঠার নিচে আপনার জন্য সংরক্ষিত স্থানে মন্তব্যসহ স্বাক্ষর করুন।
০৩। আপনার সন্তান ঠিক সময়ে স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে আসে কিনা এবং ছুটির পরে বাসায় ঠিক সময়ে ফেরে কিনা এবং বাসায় কতক্ষণ নিয়মিত লেখাপড়া করে তা লক্ষ্য রাখুন।
০৪। বিদ্যালয়ের সকল পরীক্ষাগুলোতে আপনার সন্তান নিয়মিত উপস্থিত থাকছে কিনা সে দিকে খেয়াল রাখুন এবং ফলাফল জানতে চেষ্টা ও স্বাক্ষর করুন। মোট কার্যদিনের ৯৫% উপস্থিতির যৌক্তিক কারণ দর্শনো ছাড়া কোন ছাত্রকে পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি দেয়া যাবে না।
০৫। ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৭০% লিখিত পরীক্ষা এবং ৩০% এস.বি.এ। পরীক্ষার উভয় অংশে পৃথক পৃথকভাবে পাশ করতে হবে।
০৬। “দৈনিক পাঠের বিবরণ” বই এর “ছাত্রদের আচরণ বিধি” অভিভাবক অবশ্যই পাঠ করবেন এবং সে অনুসারে তাকে চলতে নির্দেশ ও সাহায্য করবেন।
০৭। ছাত্রের লেখাপড়া ও চারিত্রিক উন্নতি সম্পর্কে জানার জন্য প্রকৃত অভিভাবক অবশ্যই মাঝে মাঝে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করবেন।
০৮। ছাত্র সম্পর্কে যে কোন বিষয়ে আলোচনার জন্য পত্র পাওয়ার পর নির্ধারিত দিনে ও সময়ে অভিভাবক শ্রেণি শিক্ষক এবং প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করবেন।
০৯। আপনার সন্তান স্কুলে অনুপস্থিতির তারিখ ও কারণ উল্লেখ করে আপনাকেই দরখাস্ত করতে হবে। মনে রাখবেন পর পর তিন দিন বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকলে দরখাস্তসহ নিজে উপস্থিত হতে হবে।
১০। কোন ছাত্র অসুস্থতার কারণে স্কুলে আসতে না পারলে অতি সত্ত্বর অভিভাবক নিজে আবেদন পত্র ডাক্তারী সার্টিফিকেটসহ শ্রেণি শিক্ষকের কাছে জমা দিবেন।
১১। কোন ছাত্র পরীক্ষায় ফেল করলে অন্য শ্রেণিতে তার ‘প্রমোশনের’ ব্যাপারে কোন প্রকার তদবির করা চলবে না।
১২। যে সব অভিভাবক নিজে সন্তানদের স্কুল আনা-নেওয়া করেন, তারা তাদের সন্তানদের ঠিক সময়ে স্কুলের গেইটে পৌঁছে দেবেন এবং ছুটির পরে ঠিক সময়ে নিয়ে যাবেন, বিদ্যালয় আঙিনায় অবস্থান করবেন না। এতে পরিবেশের ভারসাম্য ও ছাত্রের মনোযোগ নষ্ট হয়।
১৩। আপনার সন্তানের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখুন, খারাপ পরিবেশ ও অসদ-সঙ্গ থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন।
১৪। মনে রাখতে হবে অভিভাবক ও শিক্ষক/শিক্ষিকার সম্মিলিত প্রয়াসের ফলে শিক্ষার্থীর পাঠোন্নতি ও সুন্দর চরিত্র গঠন সম্ভব।
১৫। শিক্ষক শিক্ষার্থীর মানস-পিতা এ কথা স্মরণ রেখে স্বীয় সন্তানের পাঠোন্নতি ও চরিত্র গঠনের ব্যপারে শিক্ষকদের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবেন-এটাই একান্ত কাম্য।
১৬। সরকারী বিধিমালা অনুযায়ী স্কুল পরিচালিত হয়। এতে আপনাদের সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।
১৭। অর্ধ বার্ষিক পরীক্ষার পর নির্ধারিত অভিভাবক দিবসে শ্রেণিকক্ষে আপনার সন্তানের উত্তরপত্র দেখতে পারবেন এবং প্রয়োজনে শিক্ষকগণের সাথে মতবিনিময় করতে পারবেন। শৃঙ্খলা ও রেকর্ড যথাযথ সংরক্ষণের স্বার্থে উত্তরপত্র বাড়ীতে দেওয়া হবে না। কেননা ইতিপূর্বে দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থী যথাসময়ে উত্তরপত্র জমা দেয় না। ফলে উত্তরপত্র সংরক্ষণে মারাত্মকভাবে বিঘ্ন ঘটে।
আমাদের ছাত্র/ছাত্রীদের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সর্বাঙ্গীন কল্যাণ গৃহীত যাবতীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য আমরা সর্বান্তকরণ ছাত্র/ছাত্রী, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করি।
ধন্যবাদান্তে-
প্রধান শিক্ষক
গভ: ল্যাবরেটরী হাই স্কুল
ময়মনসিংহ।